ওয়েবসাইট

ই-কমার্স বাজেট, ডেভেলপমেন্ট ও কিছু কথা

ই-কমার্স হল একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসায়িক খাত, এবং COVID-19 শুধুমাত্র সেই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। অনলাইনে পণ্য বিক্রি করার ক্ষেত্রে দামী সব স্পেস(দোকান) ভাড়া না নিয়ে কাজ করা, আপনি ঘুমিয়ে থাকার সময় অর্থ উপার্জন করতে এবং দূর-দূরান্তের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে ফিজিক্যাল স্টোরে লোক সমাগম কমে যাচ্ছে এবং অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে, ই-কমার্সে বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ধারণা করা যায় বিশ্বব্যাপী বিক্রয় ২০২৩ সালের মধ্যে $7(সাত) ট্রিলিয়ন স্পর্শ করবে।

ই-কমার্স কি?
সহজভাবে বলতে গেলে, ইকমার্স হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা ক্রয়-বিক্রয় এর একটি অনলাইন(ইন্টারনেট) মাধ্যম। এটি কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ই-কমার্সের মাধ্যমে আজ প্রায় যেকোনো কিছু কেনা যায়।

কোন কোন ব্যবসার জন্য ই-কমার্স করা যায়?
যে কোন ধরনের ব্যবসার জন্য আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারেন। এটি আপনার ব্যবসা বাড়ানোর জন্য একটি ভালো মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

কি দিয়ে তৈরী করবো বা কত টাকা খরচ করবো?
বর্তমান সময়ে ইকমার্স একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হওয়ায় সবাই চেষ্টা করছে তার ব্যবসার জন্য একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করতে। তবে এখানেই অনেকে ভুল করে বসে। শুরুতে যদি আপনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন, সেক্ষেত্রে এটা আপনার ইকমার্সের জন্য একটি ভাঙ্গা দরজা হতে পারে। তাই শুরুতে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনার কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে।

১। ডোমেইন (domain)
২। হোস্টিং (Hosting)
৩। ডেভেলপমেন্ট (Development)
৪। মেইনটেনেন্স (Maintenance)
৫। ফারদার ডেভেলপমেন্ট (Further Development) (ভবিষ্যতে নতুন কিছু সংযোজন বা মডিফাই)

ডোমেইন (Domain): এটি হচ্ছে আপনার ই-কমার্সের নাম, যে নামে কাস্টমার আপনাকে অনলাইনে খুজে পাবে। গুগল যেমন google.com ব্যবহার করে এখানে এটাই তার ডোমেইন। এই নামে ইউজার অনলাইনে সার্চ করে তার সার্ভিসগুলো নিতে পারে।

ডোমেইন নেইম যেহেতু স্বতন্ত্র একটি নাম তাই রেজিস্ট্রেশনের সময় একটু খেয়াল রাখতে হবে যে ডোমেইনটি যাতে আপনার কন্ট্রোলে থাকে। কারণ ডোমেইনটি যদি আপনার হাতছাড়া হয়ে যায় তাহলে পরবর্তীতে এই ডোমেইনটি ব্যবহার আপনার জন্য সুফল বয়ে আনবে না।

তাই ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এর পূর্বে সঠিক ডোমেইন রেজিস্টারকে নির্বাচন করে নেয়া উত্তম অথবা আপনি চাইলে নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সরাসরি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন।

হোস্টিং (Hosting): আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে হোস্টিং। কারণ আপনি যদি নরমাল একটি হোস্টিং থেকে শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট লোডিং এর টাইম বেড়ে যাবে। আর ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম বেড়ে গেলে আপনি আপনার কাঙ্খিত ভিজিটর হারাবেন। তাই যেকোনো নামিদামি কোম্পানির থেকে ম্যানেজ্যবল হোস্টিং নেয়াটা উত্তম। সেক্ষেত্রেও শেয়ার্ড হোস্টিং এর বিষয়ে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত কারণ শেয়ার্ড হোস্টিং এ আপনার রিসোর্স লিমিটেশন থাকবে। তাই ভিপিএস কিংবা কোন ক্লাউড সার্ভার থেকে শুরু করা উত্তম।

ডেভেলপমেন্ট (Development): আপনার ই-কমার্সের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডেভলপমেন্ট। আপনি কোন ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করবেন তার শুরুতেই নির্বাচন করে নেয়া উচিত। যেমন ধরুন, ওয়ার্ডপ্রেস, লারাভেল ফ্রেমওয়ার্ক কিংবা যেকোন জাভাস্ক্রিপ্ট ফ্রেমওয়ার্ক যেমন node.js ব্যবহার করতে পারেন।

তবে ল্যাঙ্গুয়েজ একসাথে বাজেটের একটি বড় অংশ জড়িত। সাধারণভাবে হিসেব করতে গেলে ওয়ার্ডপ্রেসে, node.js কিংবা লারাভেল এর থেকে তুলনামূলক কম বাজেটের প্রয়োজন হয় আবার node.js এবং লারাভেল এর মধ্যে লারাভেলে কম বাজেট এর প্রয়োজন হয়। তাই আপনার বাজেট বুঝে ল্যাঙ্গুয়েজ সিলেক্ট করা কিংবা ফ্রেমওয়ার্ক সিলেক্ট করা উত্তম।

আবার অন্যদিকে কি পরিমাণ পণ্য আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে বিক্রি করতে চাচ্ছেন তার উপরে নির্ভর করে ও ল্যাঙ্গুয়েজ সিলেক্ট করতে হবে। সাধারণভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ৫০০ পর্যন্ত পণ্য খুব সুন্দর ভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে। এখন যদি আপনার প্রতিষ্ঠান ৫০০ এর উপরে পণ্য থেকে থাকে তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস থেকে বের হয়ে লারাভেল ফ্রেমওয়ার্ক কিংবা node.js ব্যবহার করা উত্তম।

তবে ওয়ার্ডপ্রেসে যে ৫০০ এর উপরে প্রডাক্ট হ্যান্ডেল করা যাবে না এমনটি নয়। আপনি চাইলে ১০ হাজার কিংবা এর অধিক প্রডাক্ট হ্যান্ডেল করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে যে ধরনের ডেভলপমেন্ট প্রয়োজন অবশ্যই আপনাকে তা ফলো করতে হবে।

আপনাদের সুবিধার্থে কিছু large-scale ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর নাম ও ১০ হাজার এর উপরে প্রোডাক্ট আছে এমন সাইটের বেসিক GTmetrix Analysis নিচে দিয়ে দিলাম

      1. Intershop: 158,000+ products
        • PageSpeed Score: 93%
        • Fully Loaded Time: 6.1 seconds
      2. Gifts and Jewels: 51,300+ products
      3. Tarox: 40,000+ products
        • PageSpeedScore: 48%
        • Fully Loaded Time: 13.1 seconds
      4. Soul Brother: 30,000+ products
      5. ShoppersPk.com: 25,000+ products
        • PageSpeed Score: 91%
        • Fully Loaded Time: 10.1 seconds
      6. Hennings Wine: 11,100+ products
        • PageSpeedScore: 56%
        • Fully Loaded Time: 10.4 seconds
      7. Bible Land Pictures: 10,400+ products
      8. Blackred.id: 8,500+ products
      9. Branded Biker: 7,500+ products
      10. MCudstodning.dk: 6,000+ products

অন্যদিকে লারাভেল কিংবা node.js ব্যবহার করলে আপনি আপনার মত করে আপনার ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারবেন। তবে অনেক সময় পর্যাপ্ত বাজেট থাকলেও ডেভলপার খুঁজে পাওয়া যায় না বা পেলেও তা কম। তাই যে ল্যাঙ্গুয়েজ এর ক্ষেত্রে ডেভেলপার সহজলভ্য সেই ল্যাঙ্গুয়েজে শুরু করা উত্তম।

সাধারণভাবে যদি বলি আপনার বাজেট যদি এক লক্ষ টাকার  নিচে হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করুন। বাজেট যদি দুই লক্ষ বা আড়াই লক্ষ এর নিচে হয়ে থাকে তাহলে লারাভেল ব্যবহার করুন, চাইলে node.js ও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাজেট যদি এর থেকে বেশি হয়ে থাকে অবশ্যই সেক্ষেত্রে জাভাস্ক্রিপ্ট আপনার জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

অনেকে কম টাকায় আপনাকে ভালো সার্ভিস অফার করতে পারে। সেক্ষেত্রে একটু অনলাইন ঘাটাঘাটি এবং উপরের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিলে আপনি আপনার সঠিক সিদ্ধান্তটিই দ্রুত নিতে পারবেন।

যেহেতু সার্ভার, ল্যাঙ্গুয়েজ এবং বাজেট এ তিনটি বিষয় একে অন্যের সাথে জড়িত। তাই একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত।

মেইনটেনেন্স (Maintenance): একটি ই-কমার্স শুরু এর পূর্বে আপনাকে অবশ্যই ভবিষ্যতের মেনটেইন্যান্স এর কথা মাথায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র তৈরি করে দিয়ে আপনি ব্যবসা করবেন এমনটি ভাবা বোকামি। প্রতিটি ল্যাঙ্গুয়েজ তার এস্টাবেল ভার্সনের জন্য পূর্বের ভার্সনের ছোট ছোট সমস্যা সমাধান করে প্রতিনিয়ত আপডেট করতে থাকে। তাই আপনি যে ভার্সন ব্যবহার করছেন সেই ভার্শন সময়ের সাথে সাথে আপগ্রেড করে নেয়া আপনার সলিউশনের জন্য অতীব জরুরী।

ধরুন আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছেন, যার ভার্শন 5.5 এর নিচে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঊ-কমার্স ওয়ার্ডপ্রেসের 5.6 ভার্শনের নিচে সাপোর্ট দিচ্ছে না। এখন আপনি উ-কমার্স ব্যবহার করতে হলে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসকে আপডেট করতে হবে। আপনি যদি মেনটেইন্যান্স সাপোর্ট না নিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিজে থেকে ভার্সন আপডেট করার সময় যেকোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই যেকোনো ধরনের অ্যাপ্লিকেশন কিংবা ওয়েবসাইট শুরুর সময় অবশ্যই মেনটেইন্যান্স এর কথা মাথায় রাখতে হবে।

ফারদার ডেভেলপমেন্ট (Further Development) (ভবিষ্যতে নতুন কিছু সংযোজন বা মডিফাই): ভবিষ্যতে আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে নতুন কিছু সংযোজন বা মডিফাই করতে চান তাহলে সে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ শুরু করা উত্তম। এতে ভবিষ্যতে আপনার সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।

আমার এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে ই-কমার্সের বেসিক কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এতে করে আপনারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে কত টাকা বাজেটে কিংবা কোন ল্যাঙ্গুয়েজে আপনার ই-কমার্স শুরু করা ভালো হবে।

চাইলে যেকোন প্রয়োজনে আমার ফেসবুক পেইজে মেসেজ করতে পারেন অথবা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে পারেন।

কথা হবে নতুন আরেকটি আর্টিকেলে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button